আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: যে ৩টি ভুলের কারণে ইরানের কাছে পর্যুদস্ত ওয়াশিংটন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কেন পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন? আল-জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির প্রভাব।

May 10, 2026 - 22:13
 0  2
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: যে ৩টি ভুলের কারণে ইরানের কাছে পর্যুদস্ত ওয়াশিংটন
×

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পিছু হটার মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলবে।

গোয়েন্দা ভুল ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা:

বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদ প্রধানের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করেছিল, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও সহজেই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। কিন্তু তেহরানের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। বহিরাগত আক্রমণের মুখে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং সাধারণ জনগণ সরকারের পেছনে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার প্রধান কারণসমূহ:

আল-জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরাজয়ের পেছনে তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছে:

​১. ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবমূল্যায়ন: মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের ৫ হাজার বছরের ইতিহাস ও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

২. প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ভুল ধারণা: দীর্ঘ ৪০ বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান যে উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন প্রযুক্তি গড়ে তুলেছে, সেই সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের সঠিক ধারণা ছিল না।

৩. ব্যয়বহুল যুদ্ধ বনাম সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: যুদ্ধের প্রযুক্তি এখন ইরানের অনুকূলে। ইরানের একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার, অথচ সেটি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই বিপুল আর্থিক অসামঞ্জস্য মার্কিন সামরিক বাজেটের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব:

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কোনো আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই মার-এ-লাগো রিসোর্টে বসে ট্রাম্পের অনুগত একটি ছোট গোষ্ঠী এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনেক বিশেষজ্ঞ ক্ষুব্ধ হন। কোনো সামরিক পথ খুঁজে না পেয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনীতির পথে ফিরে আসার কথা ভাবতে হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ফলাফল:

এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে মনে করা হচ্ছে যে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তবে রাশিয়া ও চীনের প্রভাবে তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখার এই নিরর্থক চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য একটি কূটনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে।

​#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #আল_জাজিরা #যুদ্ধ #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #মধ্যপ্রাচ্য #বিশ্লেষণ #রাজনীতি #PressPoint