ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১০ তরুণের সলিল সমাধি: খাবারের অভাবে মৃত্যু, লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হলো জলে
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন; যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দীর্ঘ ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানোদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা
গত ৬ মার্চ লিবিয়া থেকে দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে একদল যুবক গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না থাকায় একে একে ১৮ জন মারা যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জীবিতরা মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন। গত ২৭ মার্চ গ্রিসের কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে আসে, যেখানে বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত ১০ জনের পরিচয়
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী। স্বজনরা জানান, দালালের সাথে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের বক্তব্য
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে গ্রিসের ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, "বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে এবং জড়িত দালালদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।" এই ঘটনায় পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


