কুরবানির চামড়া সংরক্ষণে ডিসিদের বিশেষ নির্দেশনা: সরবরাহ উদ্বৃত্ত ২২ লাখ পশু
কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকায় সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।
আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদে পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চামড়া সংরক্ষণ ও ইমামদের ভূমিকা:
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চামড়া শিল্পের ক্ষতি এড়াতে মসজিদের ইমামসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে জেলা প্রশাসকদের জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি যেন অযত্নে নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।” এছাড়া টিসিবি’র (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) কার্যপরিধি বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
পশুর সরবরাহ ও চাহিদা:
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, চলতি বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর কোনো সংকট নেই।
কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা: ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি।
চাহিদা: ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
উদ্বৃত্ত: ২২ লাখ ২৭ হাজারের বেশি গবাদিপশু।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম নাগালে থাকার আশা করছে মন্ত্রণালয়।
নিরাপত্তা ও সীমান্ত নজরদারি:
মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে কুরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
অনলাইনে পশু বিক্রিতে বিশেষ সুবিধা:
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে পশু বেচাকেনাকে উৎসাহিত করতে কোনো ধরনের ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
#Qurbani2026 #LeatherIndustry #DCConference #CommerceMinistry #BangladeshLivestock #MarketStability #PressPoint


