শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ: কার হাতে যাচ্ছে নতুন কমিশন?

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের জঞ্জাল ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা কাটিয়ে শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে বড় পরিবর্তনের আভাস। নতুন কমিশনের দৌড়ে আলোচনায় অভিজ্ঞ মুখগুলো।

Feb 24, 2026 - 10:14
 0  3
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ: কার হাতে যাচ্ছে নতুন কমিশন?
×

আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারের বড় অংশীজনরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেয়ারবাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

​তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বাজারে আস্থা ফেরাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শেয়ারবাজার আরও নিম্নগামী হয়, যার চরম মূল্য দিতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

​২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএসইসির নেতৃত্বে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সময়ে ‘জাঙ্ক’ শেয়ারের আধিক্য এবং অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের সময়ে ‘ফ্লোর প্রাইস’ ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদও বাজারে অস্থিরতা কমাতে পারেননি। ১৯ আগস্ট ২০২৪ সালে ডিএসইএক্স সূচক যেখানে ৫,৭৭৫ পয়েন্ট ছিল, দেড় বছর পর তা ৩০৯ পয়েন্ট কমে ৫,৪৬৬ পয়েন্টে নেমেছে। এই সময়ের মধ্যে লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নামায় প্রায় ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন এবং শতাধিক ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হয়ে গেছে।

নতুন কমিশনের দৌড়ে আলোচনায় যারা

​নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএসইসির নেতৃত্বে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বসানোর দাবি উঠেছে। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদের জন্য বেশ কিছু নাম সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন—পুঁজিবাজারে দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞ ডিএসইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দুই যুগের বেশি সময় বিএসইসিতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সাবেক কমিশনার এটিএম তারিকুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এমডি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ তানভীর গনি।

​মিডওয়ে সিকিউরিটিজের এমডি মো. আশেকুর রহমান বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে এবার যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।”

​প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান

​বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল ভালো ও মৌলভিত্তির কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু গত দেড় বছরে একটি কোম্পানিও আইপিওতে আসেনি। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও আমলাতান্ত্রিক লালফিতার জটিলতায় আটকে রয়েছে।

​নতুন সরকারের পরিকল্পনা

​দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত শুক্রবার চট্টগ্রামে বলেন, “শেয়ারবাজারে একটি বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে। যা হলে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। দেশি ও বিদেশি ফান্ড আনতে হবে যাতে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ে।”

​দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্টার্ট-আপের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের হাল কাদের হাতে তুলে দেয়।