দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে নতুন শর্ত দিলো হাইআতুল উলয়া

১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে নতুন শর্ত জারি করেছে আল-হাইআতুল উলয়া; শরহে বেকায়া ও মেশকাতের মাঝে এক বছরের বিরতি বাধ্যতামূলক।

Apr 21, 2026 - 22:02
 0  25
দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে নতুন শর্ত দিলো হাইআতুল উলয়া
×

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম ও শর্তাবলি যুক্ত করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে বোর্ডটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। মূলত শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিবন্ধনের মূল শর্তাবলি

​১৪৪৮ হিজরি বা ২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য হাইআতুল উলয়া বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

​মধ্যবর্তী অধ্যয়ন: শরহে বেকায়া (সানাবিয়্যা উলইয়া সানিয়া) এবং মেশকাত (ফজিলত সানিয়া) জামাতের মাঝে অন্তত এক বছর নিয়মিত অধ্যয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

​বিভাগীয় বোর্ড পরীক্ষা: ৬টি কওমি বোর্ডের যেকোনো একটি থেকে সানাবিয়্যা উলইয়া সানিয়া এবং ফজিলত সানিয়া জামাতে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।

​ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নিয়ম: ছাত্রীদের জন্যও সানাবিয়্যা সানিয়া ও ফজিলত সানিয়া জামাতে বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একই শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।

ধারাবাহিকতা রক্ষা বাধ্যতামূলক

​নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শরহে বেকায়া ও মেশকাত জামাতের মধ্যে পাঠগ্রহণের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। এই দুই স্তরের মাঝখানে অন্তত এক বছর 'হেদায়া' ও 'জালালাইন' জামাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পাঠগ্রহণ থাকতে হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি লাফ দিয়ে বা এক বছরের বিরতিহীনভাবে উচ্চতর স্তরে উত্তীর্ণ হতে পারবে না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে ২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীর নিবন্ধন বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই নতুন নিয়মের ফলে কওমি মাদরাসাগুলোতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।