শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিলো: পীর সাহেব চরমোনাই

৫ মে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে আধুনিক ইতিহাসের এক বর্বরোচিত অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি এই ঘটনার নির্মোহ তদন্ত এবং শহীদদের জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

May 4, 2026 - 18:00
 0  3
শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিলো: পীর সাহেব চরমোনাই
×

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। ঐতিহাসিক ৫ মে ‘শাপলা দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (৪ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বর্বরোচিত অভিযানের নিন্দা:

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজির ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে অবস্থান করছিলেন, তারা ছিলেন নিরস্ত্র ছাত্র। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকে সেই সামরিক ধাঁচের অভিযান পরিচালনা করেছিল, যার তুলনা কেবল অভিশপ্ত ইসরায়েলি বাহিনীর সাথেই চলে।" তিনি উল্লেখ করেন, সেই বিভৎস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই আওয়ামী স্বৈরতন্ত্রের শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়েছিল।

বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই তৎকালীন রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে পুনরায় বিশ্লেষণের দাবি জানান। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের সেই বর্বরতা কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণী সরকারকে প্রশ্নের মুখোমুখি না করে বরং বৈধতা দিয়েছিল। কোনো ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার এই ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।"

জুলাই অভ্যুত্থান ও ৪ দফা দাবি:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন:

১. জাতীয় বীরের স্বীকৃতি: শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের জাতীয় বীর হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান।

২. ক্ষতিপূরণ: শহীদ ও আহতদের পরিবার এবং মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

৩. মামলা প্রত্যাহার: শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার।

৪. রাষ্ট্রীয় স্মরণ: শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনটিকে স্মরণ করা।

​পীর সাহেব চরমোনাই হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এমন নৃশংসতা চালানোর সাহস না পায়।

​#CharmonaiPeer #ShaplaDay #May5 #IslamicAndolan #JusticeForShapla #BangladeshPolitics #HumanRights #PressPoint