রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগমের জীবনাবসান হলো রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায়।

Mar 28, 2026 - 13:37
 0  6
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে
×

২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই লড়াকু নারীর জীবনের গল্প শেষ পর্যন্ত থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে। গত বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনিসহ একই পরিবারের চারজন।

পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু:

নিহত অন্যরা হলেন—নাসিমার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে তারা কুষ্টিয়া থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস:

নাসিমার জীবন ছিল নিরন্তর সংগ্রামের। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে যমদূতকে ফাঁকি দিয়ে ফিরে এলেও বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবারও ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হলো তার শেষ যাত্রা। এমনকি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যদিও এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রশাসনের সহায়তা:

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মৃত্যু আর ভাগ্য বিড়ম্বনার এমন সমাপতন পুরো এলাকায় এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।