নয় দেশে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ১১২২ ফ্ল্যাট-বাড়ির খোঁজ: মূল্য ১১ হাজার কোটি টাকা
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে বিশ্বের ৯টি দেশে ১,১২২টি স্থাবর সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার এই সম্পদ উদ্ধারে কাজ করছে সংস্থাটি।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে বিশ্বের নয়টি দেশে ১,১২২টি ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশি টাকায় এসব সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এই বিপুল সম্পদের তথ্য এখন দুদকের হাতে।
কোন দেশে কত সম্পদ:
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যে। সেখানে সাইফুজ্জামানের ৮০৬টি স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশে সম্পদের পরিমাণ নিম্নরূপ:
কম্বোডিয়া: ১১৬টি (মূল্য প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা)
সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই): ৭৩টি (মূল্য ৭৬১ কোটি টাকা)
মালয়েশিয়া: ৪৭টি (মূল্য ৩১৩ কোটি টাকা)
যুক্তরাষ্ট্র: ৪১টি (মূল্য ৫৬০ কোটি টাকা)
থাইল্যান্ড: ২৪টি (মূল্য ১৯০ কোটি টাকা)
ভারত: ১১টি, ভিয়েতনাম: ৪টি এবং ফিলিপাইন: ২টি।
চাঞ্চল্যকর তথ্য: ২০১২ থেকেই ভারতের নাগরিক!
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১২ সাল থেকেই ভারতের নাগরিক। ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ কর্তৃক তার নামে ইস্যু করা আধার কার্ডের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত ২৩ বস্তা নথিপত্রে ভারত সংশ্লিষ্ট এসব বিস্তারিত তথ্য মিলেছে।
দুবাইয়ে রাজকীয় জীবন ও সম্পদ পাচার:
দুদক কর্মকর্তাদের মতে, সাইফুজ্জামান বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন। আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতির সুযোগ নিয়ে তিনি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ দুবাইতে পাচার করছেন। উল্লেখ্য, দুবাই বর্তমানে অবৈধ অর্থের অন্যতম স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ:
সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুস গ্রহণের অভিযোগে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান প্রধান আসামি।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, সম্পদ উদ্ধারে ৯ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স নিরলস কাজ করছে। ইতোমধ্যে নয়টি দেশে ১২টি এমএলএআর (মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে এবং ৬টি দেশে ক্রোক আদেশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আদালতের আদেশে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব ও ৯৫৭ বিঘা জমি ফ্রিজ করা হয়েছে।
বিদেশে থাকা এই বিপুল সম্পদ ফেরত আনা এখন সময়ের দাবি। তবে কমিশনের বর্তমান নেতৃত্ব সংকট তদন্তকাজে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে।
#SaifuzzamanChowdhury #CorruptionNews #AntiCorruptionCommission #AssetSiphoning #BangladeshPolitics #IndiaAadharCard #PressPoint


