ইরানের কাছে যা চাইব তা-ই দিয়ে দেবে: ট্রাম্প
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানকে নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; দাবি করলেন ইরান ফিরে আসবে এবং মার্কিন সব শর্ত মেনে নেবে।
ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার ইরানকে নিয়ে নতুন এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনার টেবিল চিরতরে ছেড়ে যায়নি এবং খুব শীঘ্রই তারা ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মেনে নেবে। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) এই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানকে নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
‘আমি ১০০ শতাংশ চাই’
ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি, তারা ফিরে আসবে এবং আমরা যা চাইব তা-ই দিয়ে দেবে। আমি ৯০ শতাংশ চাই না, ৯৫ শতাংশও চাই না। আমি পুরো ১০০ শতাংশ চাই। তাদের হাতে খেলার মতো আর কোনো কার্ড অবশিষ্ট নেই।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে ইরান নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও রণতরী প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্প্রতি মার্কিন রণতরীতে ইরানি হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “ইরান একদিনে আমাদের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে ঘণ্টায় ২ হাজার কিলোমিটার গতিতে ১০১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেগুলো এখন সমুদ্রের গভীরে রয়েছে।” এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
‘এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি’
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাইলে মাত্র এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি। তাদের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি প্ল্যান্ট, এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও দখল করে নিতে পারি—যা হবে এক বিশাল ব্যাপার।” তিনি দাবি করেন, ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো এখন পুরোপুরি মার্কিন নজরদারিতে রয়েছে।
‘ট্রাম্প উপসাগর’ ও উপহাস
কথোপকথনের এক পর্যায়ে পারস্য উপসাগর নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেন, “আমি পারস্য উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প উপসাগর’ রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এই নামটি আসলে উপযুক্ত নয়।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইরানি সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন।


