নাগরিকের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়: পীর সাহেব চরমোনাই
সরকার গঠনের দুই মাস পার হলেও জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পীর সাহেব চরমোনাই; জ্বালানি সংকট ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের দুই মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও সাধারণ নাগরিকের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার মডেল মসজিদে আয়োজিত এক দায়িত্বশীল তারবিয়াতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জনজীবনের সংকট ও অব্যবস্থাপনা
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে সারাদেশে হাহাকার চলছে। বিশেষ করে জ্বালানির অভাবে মৎস্যজীবীদের মাছ আহরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।” তিনি প্রতিদিন হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুর খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের জীবনমান আগের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে খারাপ হয়েছে। সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার ও অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে সন্দেহ
রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সংস্কার নিয়ে বিএনপি জনরায়কে পাশ কাটানোর যে কৌশল নিয়েছে তা জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করায় সরকারের নীতি ও মনোভাব নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে আওয়ামী আমলের মতো দুঃশাসন ফিরে আসার পথ তৈরি হতে পারে।
রাজপথের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
অধ্যাদেশগুলো বাতিল না করার অনুরোধ সত্ত্বেও সরকারের অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা দেখতে চাই সরকার এখন এই বিষয়গুলোতে কী ধরণের নতুন আইন করে। যদি সরকার পতিত স্বৈরাচারের মতো স্বৈরাচার হয়ে ওঠার সুযোগ রাখে, তবে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হবে।” তিনি সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে রাষ্ট্র পরিচালনার পরামর্শ দেন।
সংশ্লিষ্ট উপস্থিতি
তালতলী উপজেলা সভাপতি মাওলানা আফজল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই তারবিয়াতে বরগুনা-১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহসহ জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


