কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা; আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা।

Apr 11, 2026 - 19:35
 0  6
কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন
×

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কথিত এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬০) নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত ও ভিডিও বিতর্ক

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে কথিত পীর শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন শরীফ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কোরআন যে তৈরি করেছে সেও মূর্খ, যারা পড়ে তারাও মূর্খ।’ এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানি

​ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ওই দরবারে চড়াও হয়। উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় হামলাকারীরা পীর শামিমসহ তার তিন অনুসারী জুবায়ের (৩২), জামিরুন্নেছা (৪০) ও খোকনকে (৪৫) বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকের বক্তব্য

​দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শামিম হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আইনগত অবস্থান ও অতীত রেকর্ড

​নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের আলী মাস্টারের ছেলে। জানা গেছে, এর আগেও ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

​ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।