‘হাসিনা খারাপ কিন্তু তার নীতি ভালো’—বক্তব্যে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন জামায়াত আমির
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘হাসিনা খারাপ কিন্তু তার নীতি ভালো’ শীর্ষক মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ও বিকৃত ভিডিওর সত্যতা প্রকাশ; মূলত বিএনপির বিচার বিভাগীয় নীতির সমালোচনা ছিল এটি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ‘হাসিনা খারাপ কিন্তু তার নীতি ভালো’—এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই দাবি করছেন যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। তবে প্রকৃত তথ্য ও ভিডিও বিশ্লেষণ বলছে, এটি কোনো প্রশংসা নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের একটি কঠোর সমালোচনা এবং রূপক মন্তব্য ছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংসদ থেকে ওয়াকআউট
গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এরপর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং ভারসাম্যহীন আচরণ করা হচ্ছে।
বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও ফ্যাক্ট-চেক
রিউমর স্ক্যানার টিম এবং বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জামায়াত আমিরের মূল বক্তব্যটি কেটে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগ নিয়ে যে নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ ছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে গেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করল—হাসিনা খারাপ হলেও হাসিনার নীতি তাদের কাছে ভালো।”
বিচার বিভাগ নিয়ে উদ্বেগ
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বর্তমান সরকার এমন সব বিল পাস করছে যার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে অতীতে যেভাবে বিচারপতি খায়রুল হক বা মানিকের মতো দলীয় বিচারপতিদের জন্ম হয়েছিল, ভবিষ্যতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
নির্যাস
তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনার প্রশংসা করেননি। বরং বিএনপির নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে ‘ফ্যাসিবাদ’মূলক দাবি করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সরকার মুখে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করলেও কার্যক্ষেত্রে তাঁরই প্রবর্তিত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিগুলো অনুসরণ করছে।


