লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান, বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন

হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি দিল ইরান; আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি।

Apr 15, 2026 - 20:20
 0  1
লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান, বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরও বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও কোনো ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সামরিক কমান্ডের কড়া বার্তা

​ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বিবৃতিতে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট পূর্বাভাস। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কোনো ধরনের আমদানি বা রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।”

তেলের বাজারে অস্থিরতা

​ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

​ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল: সোমবার বাজার খোলার পরপরই এর দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।

​ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): এর মূল্য ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

​ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরের বাইরে অন্য কোনো গন্তব্যের জাহাজের পথ আটকাবে না মার্কিন বাহিনী। মূলত এই অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে নিয়ন্ত্রণ আরোপের হুমকি দিচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রভাব ও জনরোষ

​জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে দেশব্যাপী বড় ধরণের বিক্ষোভের পর সেখানকার সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর ধার্য কর কমানোর জন্য জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।