ব্রয়লারের কেজি ২৩০, সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ল ৫০ টাকা
রাজধানীর বাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। মুরগির পাশাপাশি মাছ ও সবজির বাজারেও বইছে চড়া দামের হাওয়া।
আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ঠেকেছে ২৩০ টাকায়। অর্থাৎ সাত দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুরগির বাজারের এই অস্থিরতা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের ওপর নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বাজার চিত্র:
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারসহ আশপাশের খুচরা বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লারের পাশাপাশি অন্যান্য জাতের মুরগির দামও চড়া। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি:
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। বিক্রেতা মো. আলমগীর বলেন, “পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে। আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই খুচরায়ও দাম বেড়েছে।” অন্য এক বিক্রেতা জানান, রমজান সামনে রেখে অনেক খামারি আগেই মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় এখন বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্রেতাদের ক্ষোভ:
হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধিতে বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহের ব্যবধানে এতটা দাম বাড়বে ভাবিনি। সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছি।” নাসরিন আক্তার নামের আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাছ-মাংস সবকিছুরই দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষের জন্য এটা এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
মাছ ও সবজির বাজার পরিস্থিতি:
মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও দামের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। বাজারভেদে চাষের পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা এবং রুই ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট মাছের কেজি ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
সবজির বাজারেও শীতকালীন মৌসুম শেষ হয়ে আসায় দাম কিছুটা বাড়তি। মানভেদে বেগুন ৬০-৮০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা এবং পটল ও ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


