কওমী মাদ্রাসা বিষয়ে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই

কওমী মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিলেন মুফতি ফয়জুল করীম; প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি।

Apr 13, 2026 - 17:59
 0  14
কওমী মাদ্রাসা বিষয়ে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই
×

নির্বাচনী ইশতেহার হলো জাতির প্রতি একটি দলের প্রতিজ্ঞা। সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষায় গড়িমসি করলে সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশতেহার ও বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি

​শায়েখে চরমোনাই বলেন, “মানুষ দলের ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখে ভোট দেয়। বিএনপি তাদের ইশতেহারে কওমী মাদ্রাসা নিয়ে যে প্রতিজ্ঞা করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো গড়িমসি করা হলে তা জাতির সাথে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কওমী শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে জাতির খেদমতে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করুন।

প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি

​“দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে আমাদের করণীয়” শীর্ষক এই সভায় ওলামায়ে কেরামগণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন:

​বাধ্যতামূলক পদ সৃষ্টি: প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে স্থায়ী ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।

​দাওরায়ে হাদীসের মান: হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের মান বর্তমানে ‘কার্যত প্রতারণা’ হিসেবে রয়েছে। এই মান দিয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকুরি বা শিক্ষকতা করতে পারছেন না, যা দ্রুত নিরসন প্রয়োজন।

​যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যারা ‘প্রাক্টিসিং মুসলিম’ তাদেরকেই ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যও জরুরি।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

​সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সতর্ক করে বলেন, “আমরা আজ সরকারকে একটি মৃদু আওয়াজ দিয়ে সতর্ক করলাম। আমরা এটা নিয়ে এখনই আন্দোলনে যেতে চাই না, তবে প্রয়োজন হলে রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”

কওমী শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা

​সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, কওমী মাদ্রাসার উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তাদেরকে মূলধারার কর্মসংস্থানে সুযোগ করে দিলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

​সভায় খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।