ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়

ফেনীর পরশুরামে আপন ভাইয়ের কুকর্ম ঢাকতে ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদকে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর বেরিয়ে এলো আসল সত্য। নির্দোষ প্রমাণিত হলেন ইমাম, ফেঁসে গেলেন কিশোরীর আপন ভাই।

May 7, 2026 - 21:21
 0  8
ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়
×

নিজের আপন ভাইয়ের লালসার শিকার হয়ে কিশোরীর মা হওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল মসজিদের এক নির্দোষ ইমামকে। দীর্ঘ তদন্ত এবং ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে সেই ইমাম নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে যে, ভুক্তভোগী কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) পিতা আসলে তার আপন বড় ভাই।

মামলার প্রেক্ষাপট ও হয়রানি:

২০১৯ সালে মক্তবে পড়াশোনা শেষ করা এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তার পরিবার স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। মোজাফফর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১ মাস ২ দিন বিনাদোষে কারাভোগ করার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

তদন্তে মোড় ও স্বীকারোক্তি:

মামলার তদন্তের স্বার্থে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। প্রথম দফায় কোনো পুরুষের বীর্য শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ অধিকতর তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে কিশোরী পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই (২২) দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বড় ভাইকে বাঁচাতে এবং সামাজিক লোকলজ্জা এড়াতে পরিবারটি সুকৌশলে ইমাম মোজাফফরকে আসামি করেছিল।

ডিএনএ রিপোর্টে চূড়ান্ত প্রমাণ:

আদালতের নির্দেশে কিশোরী, তার সন্তান এবং তার বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, ওই সন্তানের জৈবিক পিতা কিশোরীর আপন বড় ভাই (মিল ৯৯.৯৯%)। একই প্রতিবেদনে ইমাম মোজাফফর আহমদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে কিশোরীর ভাই ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের আকুতি:

নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর ইমাম মোজাফফর আহমদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি সামাজিকভাবে চরম অপমানিত হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে পৈতৃক জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। এই মিথ্যা অপবাদের কারণে যে অপূরণীয় ক্ষতি আমার হয়েছে, আমি তার সঠিক বিচার চাই।”

​পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পুলিশ শুরু থেকেই বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। ডিএনএ রিপোর্টে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট থেকে ইমামের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

​#ফেনী #মিথ্যা_মামলা #ন্যায়বিচার #ডিএনএ_টেস্ট #ইমাম #পরশুরাম #FeniNews #InnocenceProven #DNATest #Justice #FalseAccusation #PressPoint