ইরান যুদ্ধ নিয়ে দোলাচলে চীন, কষছে হিসাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে চীন। জ্বালানি নিরাপত্তা, বিপুল বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক অস্থিরতার মাঝে বেইজিংয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

Mar 7, 2026 - 11:02
 0  25
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দোলাচলে চীন, কষছে হিসাব
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দোলাচলে চীন, কষছে হিসাব
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দোলাচলে চীন, কষছে হিসাব
×

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার সরাসরি ধাক্কা এখনো বেইজিংয়ের গায়ে না লাগলেও, এর সুদূরপ্রসারী ঢেউ টের পেতে শুরু করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। স্বল্পমেয়াদে তেলের মজুত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখন গভীর হিসাব কষছেন চীনা নীতিনির্ধারকরা।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি:

এই সপ্তাহেই বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির হাজারো প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় সংকোচন, আবাসন খাতের সংকট এবং স্থানীয় ঋণের পাহাড়ের মাঝে ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে চীন। এমন নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চীনের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল:

চীনের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত হলে চীনের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ফিলিপ শেটলার-জোন্স মনে করেন, এই অস্থিরতা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আফ্রিকার দেশগুলোতে থাকা চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

চীন-ইরান সম্পর্ক: বন্ধু নাকি লেনদেন?

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশ্ব ইরানকে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করলেও এই সম্পর্ক মূলত ‘লেনদেনভিত্তিক’।

​২০২১ সালের চুক্তি: ২৫ বছরের জন্য ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার খুব সামান্যই ইরানে পৌঁছেছে।

​তেল আমদানি: ২০২৫ সালে চীন প্রতিদিন প্রায় ১৩.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে, যা তাদের মোট আমদানির ১২ শতাংশ।

​প্রযুক্তি ও নজরদারি: অভিযোগ রয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রযুক্তিতে চীন সহায়তা দিয়ে আসছে।

​লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন বলেন, “চীনের কাছে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘স্থায়ী বিরক্তির কারণ’ হিসেবে সুবিধাজনক ছিল। এখানে গভীর কোনো আদর্শিক বা সাংস্কৃতিক ভিত্তি নেই।”

মিত্র রক্ষায় চীনের সীমাবদ্ধতা:

ভেনেজুয়েলা এবং বর্তমানে ইরানের সংকট প্রমাণ করেছে যে, চীনের অংশীদারত্বের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সামরিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে, চীন এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বেইজিং মূলত ‘দর্শক’ হিসেবে শান্তি ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর ও ভবিষ্যৎ:

চলতি মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। এই যুদ্ধ যদি যুক্তরাষ্ট্রে অজনপ্রিয় হয়, তবে তা তাইওয়ানের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে চীনের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। বেইজিং এখন ট্রাম্পের পরবর্তী চাল বোঝার অপেক্ষায় রয়েছে।

​অধ্যাপক কেরি ব্রাউন যোগ করেন, “চীন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় পরিচালিত বিশ্ব চায় না, কিন্তু তারা এটাও চায় না যে যুক্তরাষ্ট্র এতটা অস্থির আচরণ করুক যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে।”