সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো

দেশের সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে আলোচনার ঝড়।

Mar 17, 2026 - 05:56
 0  75
সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো
×

সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো?

বিবিসি বাংলা 

​বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের পর ৪২টি জেলা পরিষদেও দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের উল্লসিত করলেও প্রশ্ন উঠছে যে, স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি নেতাদের 'পুনর্বাসন কেন্দ্রে' পরিণত হলো কি-না।

​প্রশাসনিক গতিশীলতা বনাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করার লক্ষ্যেই রাজনৈতিক প্রশাসক বসানো হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তুলনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জনগণের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত থাকায় তারা ভালো কাজ করতে পারবেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গত রোববার ৪২টি জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার পর সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

​তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। প্রশাসক পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার এবং এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় কর্তৃত্ব স্থাপনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তারা। বিশেষ করে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বা দলীয় মনোনয়ন পাননি। ফলে একে রাজনৈতিক 'পুরস্কার' বা 'সান্ত্বনা' হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

​নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চিত্র

২০২৪ সালের অগাস্টে পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও প্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে এই পরিবর্তনগুলো আসছে।

​সিটি কর্পোরেশন: ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আবদুস সালাম, উত্তর সিটিতে শফিকুল ইসলাম খান এবং খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ দেশের প্রধান সিটিগুলোতে বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

​জেলা পরিষদ: সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে ৪২টি জেলা পরিষদেও বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের বসানো হয়েছে।

​স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, দলীয় নেতাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞ ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

নগর বিশেষজ্ঞ ও আইপিডির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান একে "দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশাসকরা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

​অন্যদিকে, সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, দলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং এটি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র হতে পারে।

​সার্বিকভাবে, স্থানীয় সরকারকে ঢেলে সাজানোর এই প্রক্রিয়াটি একদিকে জনসেবা নিশ্চিত করার দাবি করলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার গঠনের স্বপ্নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।