যাত্রী সংকটে গাবতলী টার্মিনাল, কাউন্টারে পরিবহন শ্রমিকদের হাঁক-ডাক
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটি শুরু হলেও গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা দিয়েছে যাত্রী সংকট। পদ্মা সেতু ও ট্রেনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় বাস কাউন্টারগুলো এখন ফাঁকা।
যাত্রী সংকটে গাবতলী টার্মিনাল, কাউন্টারে পরিবহন শ্রমিকদের হাঁক-ডাক
আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে সোমবার সরকারি ও আধা সরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টানা সাতদিনের ছুটি। নাড়ির টানে নগরবাসী ঢাকা ছাড়তে শুরু করলেও গাবতলী বাস টার্মিনালে চাহিদা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছেন না পরিবহন শ্রমিকেরা।
পদ্মা সেতু ও ট্রেনের প্রভাবে যাত্রী খরা
টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কাউন্টারই প্রায় ফাঁকা। যাত্রী আকর্ষণে শ্রমিকদের হাঁক-ডাক দিতে দেখা যাচ্ছে। সূর্যমূখী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সারওয়ার জানান, "পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই রুটে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ট্রেনেও মানুষ বেশি যাচ্ছে, তাই আমরা ডেকেও যাত্রী পাচ্ছি না।"
একই সুর দ্রুতি পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাঈদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, "ঢাকার যানজট ঠেলে গাবতলী আসতেই মানুষের ২-৩ ঘণ্টা লেগে যায়। তার চেয়ে যাত্রাবাড়ী হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত করা এখন অনেক সহজ।"
তেল সংকট ও টিকিট বিড়ম্বনা
যাত্রী সংকটের পাশাপাশি নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেল সংগ্রহের বিড়ম্বনা। রাবেয়া পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কাইয়ুম অভিযোগ করেন, "সরকার বলছে তেলের অভাব নেই, অথচ পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গাড়ি সময়মতো আসতে না পারায় আমরা অগ্রিম টিকিট দিতে পারছি না।"
ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যাত্রীদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরাগামী যাত্রী জাকির হোসেন জানান, স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকা ভাড়া হলেও তার কাছ থেকে ১,০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে; বছরের অন্য সময় তারা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেন বলেই এখন যাত্রীদের কাছে এটি বেশি মনে হচ্ছে।
বিপরীতে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে ঈদের টিকিট পেতে যুদ্ধ করতে হতো, এখন কাউন্টারে এসেই অনায়াসে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ও তদারকি
টার্মিনালে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র্যাব, পুলিশ এবং বিআরটিএ-র কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। বিআরটিএ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, "যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া রোধে আমাদের ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অভিযোগ পেলেই আমরা জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।"


