‘বিসিবিতে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি’: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিসিবিতে ‘বাপের দোয়া কমিটি’ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; একই অধিবেশনে পাস হলো সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান কমিটি গঠন নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর করা ‘বাপের দোয়া’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে এই বিতর্কের জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কড়া জবাব দিয়ে বলেন, বিসিবিতে কোনো ব্যক্তিগত দোয়া বা পারিবারিক কমিটি করা হয়নি।
‘বাপের দোয়া’ বনাম ‘মায়ের দোয়া’ বিতর্ক
অধিবেশন চলাকালে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, “বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি এখন ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।” এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাস্যরস ও শ্লেষ মিশিয়ে বলেন, “আমরা এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি। এতদিন পর্যন্ত শুনতাম ‘মায়ের দোয়া পরিবহন’ আছে, আজকে মাননীয় সদস্যের কল্যাণে দেখলাম ‘বাপের দোয়া কমিটি’ও আছে।” মন্ত্রীর এই মন্তব্যে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাস
একই দিনে সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, বিল সংক্রান্ত তুলনামূলক শিটটি মাত্র কয়েক মিনিট আগে পাওয়ায় তা বিস্তারিত পড়ার সুযোগ হয়নি। স্পর্শকাতর এই আইনটি পর্যালোচনার জন্য তিনি আরও সময় চান। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিল পাসের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির আইনি সুযোগ নেই। ফলে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পাস হয়।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইনি ভিত্তি
পাস হওয়া এই বিলের মাধ্যমেই মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সেই বিশেষ অধ্যাদেশটি স্থায়ী আইনে রূপ নিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকল।
সংসদীয় কার্যক্রম ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
বিলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী এনে নির্বাহী আদেশে যে কোনো সন্ত্রাসী সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও যাচাই-বাছাই শেষে আজ এটি আইনে পরিণত হলো। যদিও বিরোধী দল এই প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে সরকারি পক্ষ একে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।


