চীন ও রাশিয়াসহ বহু দেশ যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ করছে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে চীন ও রাশিয়াসহ ১১টি দেশ যুদ্ধবিরতির জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।
চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ইরানি বার্তা সংস্থা 'ইসনা নিউজ এজেন্সি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ঘারিবাবাদি বলেন, “চীন এবং রাশিয়াসহ অনেক দেশ ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের জানিয়েছি যে আমরাও সংঘাতের অবসান চাই। তবে আমাদের প্রধান শর্ত হলো— আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো হামলা চালাবে না, এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা আমাদের প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনব্যাপী তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত ১০ দিনে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ১ হাজার ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেলের ডিপোগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেওয়ায় বড় শক্তিগুলো এখন মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


