ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জ্বলছে তেল আবিব, অনবরত বাজছে সাইরেন
কুদস দিবস পালনের পরপরই ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় তেল আবিবের বেশ কয়েকটি এলাকা অগ্নিকুণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে।
কুদস দিবস পালন শেষ করেই ইসরায়েলের ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) রাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার বড় একটি অংশ সরাসরি ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র তেল আবিবে আঘাত হেনেছে। হামলার পর পুরো তেল আবিবজুড়ে সাইরেনের শব্দ এবং আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে।
আকাশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের বহর:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তেল আবিবের আকাশ মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারার বহরের মতো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ডটির দিকে ধেয়ে আসছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।
ইসরায়েলি বাহিনীর স্বীকারোক্তি:
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার গভীর রাতে নিশ্চিত করেছে যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ইসরায়েলের একটি গুদামঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে গুদামটিতে কী ধরনের সরঞ্জাম ছিল বা হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও গোপন রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতম রাত:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল ইসরায়েলের ওপর ইরানের অন্যতম বড় ও বিধ্বংসী হামলা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুদস দিবসের প্রাক্কালে এই হামলা মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি কড়া বার্তা।
এই হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদে বোম শেল্টারে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


