রাজি করাতে পারেননি ৩ প্রেসিডেন্টকে, ইসরায়েলের ফাঁদে পড়েন শুধু ট্রাম্প
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, বুশ, ওবামা ও বাইডেন রাজি না হলেও নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনায় সায় দিয়েছেন একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। গত তিন দশকের চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে অন্তত তিনজনকে তিনি এই পরিকল্পনায় রাজি করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সেই ‘ফাঁদে’ পা দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট
হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকির সঞ্চালিত ‘দ্য ব্রিফিং’ নামক টক শোতে অংশ নিয়ে জন কেরি এই বিস্ফোরক তথ্য দেন। উল্লেখ্য, জন কেরি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বারাক ওবামা প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে তাঁর গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর প্রস্তাব ও তিন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাখ্যান
কেরি জানান, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে চিরতরে ধ্বংস করা ছিল নেতানিয়াহুর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন:
জর্জ ডব্লিউ বুশ: নেতানিয়াহুর হামলার আবদার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বারাক ওবামা: কূটনৈতিক সমাধানের পথে হেঁটেছিলেন এবং হামলা নাকচ করে দেন।
জো বাইডেন: তিনিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাবে সায় দেননি।
জন কেরি আক্ষেপ করে বলেন, “নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় ইরানের কোন জায়গায় হামলা হবে, কোন নেতাদের হত্যা করা হবে—সবই বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। পূর্ববর্তী তিনজন প্রেসিডেন্ট বিষয়টির ভয়াবহতা বুঝে প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প সেই কাজটিই করে বসলেন।”
ট্রাম্পের অবস্থান ও বর্তমান সংকট
জন কেরির মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যেখানে বুশ, ওবামা বা বাইডেন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা ভেবে সংঘাত এড়িয়েছিলেন, সেখানে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কৌশলগত ফাঁদে পা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক শক্তিতে লিপ্ত হয়েছেন। এর ফলে বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষণের গুরুত্ব
কূটনীতিকদের মতে, জন কেরির এই স্বীকারোক্তি বর্তমানে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পেছনের মূল কারণগুলোকে স্পষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে যখন পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে, তখন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


