পিলখানা হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনা

পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিস্ফোরক মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তাঁরসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

Feb 24, 2026 - 20:39
 0  1
পিলখানা হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনা
×

দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি হতে যাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তাঁর নাম উঠে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​জড়িত হিসেবে নাম এসেছে যাদের

​বিস্ফোরক মামলার চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার নাম এসেছে। তালিকায় রয়েছেন:শেখ ফজলুর রহমান তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও অনেকে।

​চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

মামলার বর্তমান অবস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়া

​১৭ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৮৫০ জন। মামলায় মোট ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালেই তৎকালীন সরকার প্রধান ও নীতি-নির্ধারকদের জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ফ্ল্যাশবাক

​২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার সুরক্ষিত সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।

​বিচারিক আদালতের রায় (২০১৩): ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

​হাইকোর্টের রায়: ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন।

​দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াই ও আপিল প্রক্রিয়ার মাঝে নতুন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আসামি করার বিষয়টি নিহতের পরিবার ও সচেতন মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।