মন্ত্রিত্ব পেলেন বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের নতুন সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। জানুন তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও সম্পদের বিবরণ।
বিএনপির নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু এবং দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী গুলশান কার্যালয়। এই বাড়িটি ঘিরেই কেটেছে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বহু সংকটময় সময়। অনেকের ধারণা বাড়িটি দলের নিজস্ব সম্পত্তি হলেও বাস্তবে এর মালিক বর্তমান সরকারের নবনিযুক্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
২০০৮ সালের অত্যন্ত প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাকারিয়া তাহের নিজের এই বাড়িটি দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রদান করেন। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা চাপ, পুলিশি বেষ্টনী কিংবা বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনার পরও তিনি বাড়িটি থেকে দলীয় কার্যালয় সরিয়ে নেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের এই অবিচল একনিষ্ঠতার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছেন।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের এবারের নির্বাচনে এক বিশাল জয় পেয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
হলফনামার তথ্য: জাকারিয়া তাহের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্যতম ধনী সদস্য। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকা।
১৯৬৫ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া তাহের। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
পারিবারিক ঐতিহ্য: তাঁর বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও তিনবারের সংসদ সদস্য।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: বাবার মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হন তিনি। পরবর্তীতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন পরিচালক হিসেবেও যুক্ত আছেন।
জাকারিয়া তাহের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বরুড়ায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বরুড়ার এই কৃতি সন্তান তাঁর মেধা ও দক্ষতা দিয়ে দেশের গৃহায়ণ ও অবকাঠামো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন।


