মার্চে সড়কে প্রাণ গেছে ৫৩২ জনের: বাড়ল দুর্ঘটনার হার

গত মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে; ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে উঠে এল ভয়াবহ চিত্র।

Apr 11, 2026 - 15:09
 0  4
মার্চে সড়কে প্রাণ গেছে ৫৩২ জনের: বাড়ল দুর্ঘটনার হার
×

দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মার্চ মাস ছিল এক রক্তক্ষয়ী সময়। সারা দেশে গত মাসে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক ও ১৭টি অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন ও যানবাহনের পরিসংখ্যান

​প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে:

​মোটরসাইকেল: ২০৪ জন নিহত (মোট নিহতের ৩৮ শতাংশের বেশি)।

​বাস ও তিন চাকার যানবাহন: বাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন এবং ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশায় ৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

​অন্যান্য: ট্রাক-পিকআপে ২৮ জন এবং প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসে ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

​দুর্ঘটনার স্থানে দেখা গেছে, ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ ২৩১টি ঘটনাই ঘটেছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয়।

বিভাগভিত্তিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ

​বিভাগ হিসেবে ঢাকাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

​ঢাকা বিভাগ: ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত। (রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত)।

​সিলেট বিভাগ: সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত।

​ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫.৪২ জন নিহত হলেও মার্চ মাসে সেই গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেল ও নৌপথের চিত্র

​সড়কপথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ। মার্চ মাসে:

​রেলপথ: ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হয়েছেন।

​নৌপথ: ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ও পর্যবেক্ষণ

​রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতির কারণে অধিকাংশ চালক নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। তাদের চিহ্নিত প্রধান কারণগুলো হলো:

১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও বেপরোয়া গতি।

২. চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা।

৩. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো।

​ফাউন্ডেশনের মতে, প্রযুক্তির মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়।