বিজেপির ঐতিহাসিক জয়: কে বসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গের ‘অজেয় দুর্গ’ জয় করেছে বিজেপি। মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? শুভেন্দু অধিকারী না কি কোনো নারী চমক?

May 4, 2026 - 22:11
 0  7
বিজেপির ঐতিহাসিক জয়: কে বসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে?
×

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য পশ্চিমবঙ্গ ছিল দীর্ঘদিনের এক ‘অজেয় দুর্গ’। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থানে অবশেষে পদ্ম ফুটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস জয়ের পর এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

​অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কোনো ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালিই হবেন রাজ্যের কর্ণধার। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘আমিষভোজী’। বর্তমানে মমতার উত্তরসূরি নির্বাচনে বিজেপির হাইকমান্ড বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নাম নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে যারা এগিয়ে:

​১. শুভেন্দু অধিকারী: শক্তিশালী দাবিদার

তৃণমূলের সাবেক হেভিওয়েট এবং মমতার একসময়ের সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীকেই এই পদের সবচেয়ে যোগ্য মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’ উপাধি পান। এবারও লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখা শুভেন্দুর রয়েছে তৃণমূল স্তরে বিশাল সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক। তবে পুরোনো কিছু আইনি মামলা তার পথে বাধা হতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

​২. নারী নেতৃত্বের চমক: অগ্নিমিত্রা বা রূপা

নারী নিরাপত্তাকে প্রধান নির্বাচনী ইস্যু করায় বিজেপি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের পথে হাঁটতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ও ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল এগিয়ে রয়েছেন। তার তীক্ষ্ণ বাগ্মিতা ও লড়াকু মনোভাব দলের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, ‘মহাভারতের’ দ্রৌপদী খ্যাত রূপা গাঙ্গুলীও আলোচনায় আছেন। শহুরে ভোটার ও নারীদের মাঝে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

​৩. শমীক ভট্টাচার্য: আরএসএসের পছন্দের মুখ

বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একজন ‘সর্বজনগ্রাহ্য’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আরএসএসের আদর্শে গড়ে ওঠা এই নেতা আড়ালে থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

​৪. দিলীপ ঘোষ: লড়াকু সৈনিক

বিজেপিকে বাংলায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কারিগর দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরের এই নেতার রয়েছে বিশাল এক সমর্থক গোষ্ঠী। আরএসএসের একনিষ্ঠ এই কর্মী তার ‘আগ্রাসী’ রাজনীতির জন্য পরিচিত। বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বারবার শিরোনামে এলেও তৃণমূল স্তরে তার মতো জনপ্রিয় নেতা বিজেপিতে খুব কমই আছেন।

মোদির ‘ব্র্যান্ড’ ও ভূমিপুত্রের লড়াই:

পুরো নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিই ছিলেন বিজেপির তুরুপের তাস। ঝালমুড়ি খাওয়া থেকে শুরু করে কালী মন্দিরে পূজা দেওয়া—মোদি নিজেকে বাঙালির কাছের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অভিজ্ঞ রাজনীতিক নাকি নতুন কোনো চমক—কে বসবেন নবান্নের গরম চেয়ারে, তা নির্ধারিত হবে দিল্লির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পর।