হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা স্থবির হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা ও মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

May 11, 2026 - 10:20
 0  2
হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

বাজারের বর্তমান চিত্র:

রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮.৪৮ ডলারে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান এই বাজারদর যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার পর্যন্ত বেশি।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা:

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয় এই হরমুজ প্রণালি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুশিয়ারি দিয়েছেন যে—যারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে। এই সতর্কবার্তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকির সংকেত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান:

এদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর:

তেলের এই লাগামহীন দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪.৫২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৩ ডলারের নিচে। জ্বালানি সংকটের এই উত্তাপ কেবল পশ্চিমা দেশগুলো নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

​#তেলের_দাম #জ্বালানি #ইরান_যুক্তরাষ্ট্র_যুদ্ধ #বিশ্ব_বাজার #অর্থনীতি #HormuzStrait #OilMarket #PressPoint