চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকেছে গুলি, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ছোট্ট রেশমী

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ ১১ বছরের রেশমী। গুলিটি চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়ায় লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

May 11, 2026 - 12:03
 0  7
চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকেছে গুলি, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ছোট্ট রেশমী
×

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির একটি সরু গলি। যেখানে কয়েক দিন আগেও বই-খাতা হাতে চঞ্চল রেশমী আক্তারের (১১) পদচারণা ছিল, সেখানে এখন শুধুই বিষাদ আর স্বজনদের আহাজারি। দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। মা সাবেরা বেগম ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে দোকানে পাঠিয়েছিলেন। ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই গোলাগুলির মুখে পড়ে শিশুটি। একটি গুলি তার বাঁ চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কের ভেতরে ঢুকে যায়।

চিকিৎসা ও মেডিকেল বোর্ড:

চমেক হাসপাতালের আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে রেশমীর বাবা রিয়াজ আহমেদ ও মা সাবেরা বেগমের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রেশমীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গত শনিবার (৯ মে) উচ্চপর্যায়ের একটি মেডিকেল বোর্ড বসেছে। নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাইফুল আলম জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে আটকে আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে, যা তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পরিবারের আহাজারি:

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, যিনি সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। অসহায় বাবা বলেন, "মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছি। জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছি, কিন্তু আইসিইউর খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।" মা সাবেরা বেগম বিলাপ করে বলছিলেন, "যদি জানতাম বাইরে গোলাগুলি হবে, তবে পান আনতে পাঠাতাম না।"

পুলিশি তদন্ত ও নেপথ্য কারণ:

পুলিশ জানায়, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে হাসান রাজু নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে একদল সন্ত্রাসী রউফাবাদে আসে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতেই রেশমী বিদ্ধ হয়। এই ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​পৃথিবী বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসের বলি হওয়া রেশমীর জন্য এখন অলৌকিক কোনো সুস্থতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা।

​#চট্টগ্রাম #বায়েজিদ #সন্ত্রাস #রেশমী #চমেক #আইসিইউ #নিরাপত্তা #বাংলাদেশ #PressPoint