পুলিশকে ‘না’ বলতে শেখাতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

পুলিশ বাহিনীকে আইনবহির্ভূত নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মামলার তদন্তে অপর্যাপ্ত বাজেট ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে সংসদে ও ফেসবুকে জোরালো বক্তব্য দেন তিনি।

May 11, 2026 - 19:24
 0  3
পুলিশকে ‘না’ বলতে শেখাতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
×

পুলিশ সদস্যদের আইনবহির্ভূত বা অন্যায় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা ও সাহস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি-র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পুলিশ বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সংস্কার নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

তদন্তে অপর্যাপ্ত বাজেটের চিত্র:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই অগ্রসৈনিক পুলিশের দুর্নীতির মূলে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, খুন বা ডাকাতির মতো গুরুতর মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা বছরের পর বছর চলা তদন্তের জন্য একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এমনকি হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলার তদন্তে বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা। হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, “একজন সরকারি কর্মচারী কেন নিজের পকেট থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবেন?” এই অভাবই পুলিশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় বলে তিনি মনে করেন।

ওভারটাইম ও সাপ্তাহিক ছুটি:

সংসদের প্রথম অধিবেশনেও হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতার দাবি তুলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল এ বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ায় তিনি একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীরা সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পেলেও পুলিশের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি প্রায় নেই। জনবল সংকটে অতিরিক্ত কাজ অনিবার্য হলেও তার যথাযথ প্রতিদান বা ওভারটাইম নিশ্চিত করতে হবে।”

‘না’ বলার সাহস ও আইনি সুরক্ষা:

পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট দূর করতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “পুলিশকে ‘না’ বলতে শেখাতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের কোনো বেআইনি নির্দেশ মানার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, বেআইনি আদেশ প্রত্যাখ্যান করার কারণে পুলিশ সদস্যরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য তাদের আইনি সুরক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার।

জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা:

নিজের আত্মসমালোচনা করে তরুণ এই সংসদ সদস্য বলেন, “অনেক সময় আমরা জনপ্রতিনিধিরাও অজান্তেই বেআইনি প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাই। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।” সবশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, রাষ্ট্র যেভাবে পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, পুলিশ বাহিনী কি নিজে তা অর্জনে সমানভাবে প্রস্তুত?

​পুলিশের পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং একটি জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও স্বচ্ছতার বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই এনসিপি নেতা।

​#হাসনাত_আবদুল্লাহ #পুলিশ_সংস্কার #ওভারটাইম #দুর্নীতি #এনসিপি #বাংলাদেশ #রাজনীতি #PressPoint