‘লাভ জিহাদ’ ইস্যু: শিক্ষিত মুসলিমদের টার্গেট করার অভিযোগ আসাদুদ্দিন ওয়াইসির
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস অফিসকে কেন্দ্র করে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ মামলায় শিক্ষিত মুসলিমদের পরিকল্পিতভাবে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস (TCS) অফিসকে ঘিরে আলোচিত কথিত ‘লাভ জিহাদ’ মামলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিত মুসলিম তরুণ-তরুণীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মিডিয়া ট্রায়াল ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন:
রোববার (১০ মে) ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াইসি বলেন, আদালতের রায়ের আগেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাঁর দাবি, এই মামলা আইনি পরীক্ষায় টিকবে না। তিনি অতীতে মালেগাঁও বিস্ফোরণ ও মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, বহু মানুষ বছরের পর বছর বিনা বিচারে ভোগান্তির পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
প্রমাণাদি নিয়ে সংশয়:
অভিযুক্তদের কাছ থেকে বোরকা, হিজাব ও ধর্মীয় বই উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, “প্রতিটি মুসলিম পরিবারের ঘরেই কোরআন, ধর্মীয় বই বা বোরকা থাকতে পারে। এগুলোকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।” তিনি আরও দাবি করেন, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান টিসিএসের এইচআর বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং অভিযোগ দায়েরের আগেই তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল।
বিজেপি ও শিবসেনার অবস্থান:
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা এই ঘটনাকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। বিজেপি ও শিবসেনার (একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী) কয়েকজন নেতা একে ‘লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনার পেছনে এআইএমআইএম–এর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্তে বিশেষ তদন্ত টিম (SIT) গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: মুসলিম মিরর


