ঘাটতি বাজেট ও ঋণনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ: সরকারকে ‘ধার করে ঘি খাওয়া’ বন্ধের আহ্বান অর্থনীতিবিদদের
ঘাটতি বাজেট নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ‘ধার করে ঘি খাওয়ার’ নীতি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে অলিগার্কদের আধিপত্য ভাঙার ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
দেশের অর্থনীতিকে গুটিকয়েক প্রভাবশালী অলিগার্কের কব্জা থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে অবশ্যই ‘ধার করে ঘি খাওয়ার’ সংস্কৃতি বা বিশাল ঘাটতি বাজেটের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সরকারি লক্ষ্য:
রোববার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সমাজের যেসব মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন, তাদের মূলধারায় যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।" সরকারের এই পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাড়ানো, নারী ও কৃষকদের ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড’ এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’—এর মতো জনবান্ধব কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও অলিগার্ক ইস্যু:
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকারের এই পরিকল্পনা ইতিবাচক হলেও এটি বাস্তবায়নে সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, "সরকারকে অবশ্যই ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয় ছাঁটাই করতে হবে। বিনিয়োগের টাকা জোগাতে ব্যাংক ঋণের বদলে সরকারি কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।"
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, অলিগার্ক বা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভাঙা হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এমপ্লায়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমানে চিনি বা ডালের মতো নিত্যপণ্যের বাজার মাত্র কয়েকজনের হাতে জিম্মি। ব্যাংকগুলো শুধু বড় ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার সুবিধা দেয়। এই বৈষম্য দূর করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ:
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে একে ১ হাজার বিলিয়ন বা ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিতে হলে আগামী ৮ বছরে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি চিহ্নিত অলিগার্কদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে না পারে, তবে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্র’ শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
#বাজেট #অর্থনীতি #অলিগার্ক #আমির_খসরু #বাংলাদেশ #ট্রিলিয়ন_ডলার_অর্থনীতি #বাজার_সিন্ডিকেট #PressPoint


