শাপলা চত্বর মামলা নিয়ে ষড়যন্ত্র: রাকিবুল ইসলামকে হেফাজত থেকে বহিষ্কার
সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং শাপলা চত্বর গণহত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে বহিষ্কার করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। জানুন বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের মানহানি, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যার বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নির্দেশে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদ এবং ভোলা জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ষড়যন্ত্র ও বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ:
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলূমে সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বর গণহত্যার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বমুহূর্তে ফারুকী সুপরিকল্পিতভাবে শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মামলার বাদী মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে বিতর্কিত করে বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতেই দেশি-বিদেশি একটি চক্রের হয়ে তিনি কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুরানো বিতর্ক ও ব্যক্তিগত অভিযোগ:
মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীর বিরুদ্ধে এটিই প্রথম ব্যবস্থা নয়। এর আগেও ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগে তৎকালীন আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.) তাকে ব্যক্তিগত সহকারীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া চলতি বছরের ১২ এপ্রিল তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা বেগম বিয়ের তথ্য গোপন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিন, আল্লামা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারীসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


