গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও একের পর এক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে গত এক সপ্তাহে দুই নারীসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে সর্বশেষ ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর পুরো এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতদের পরিচয়:
গত ২২ এপ্রিলের সেই ভয়ংকর কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তারা হলেন:
সুলতানা বেগম (৩৯): কঞ্চিপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী (মৃত্যু: ১৩ মে)।
আফরোজা বেগম (৪০): ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী (মৃত্যু: ১২ মে)।
রতনেশ্বর বর্মণ (৪২): ছাপরহাটী ইউনিয়নের মণ্ডলেরহাট এলাকার বাসিন্দা (মৃত্যু: ৮ মে)।
নন্দ রানী (৫৫): কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী (মৃত্যু: ৬ মে)।
ফুলু মিয়া (৫২): কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে (মৃত্যু: ৬ মে)।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আতঙ্ক:
গত ২২ এপ্রিল সকালে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুর তণ্ডব চালিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জনকে কামড়ে গুরুতর আহত করে। আহতরা স্থানীয়ভাবে এবং গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছে না। আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই ভুক্তভোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ভ্যাকসিন নিয়েও কেন এই মৃত্যু?
নিহতদের স্বজনদের দাবি, তারা নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছিলেন। সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন জানান, তাঁর মাকে সময়মতো পাঁচটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল, তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও কেন একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের পরিবারকে ইতোমধ্যে দুর্যোগ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদেরও সহায়তা প্রদান করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে ওই এলাকায় আরও ৮ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ‘জলাতঙ্ক’ নিয়ে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।


