ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করল ভারতীয় আদালত!
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করল হাইকোর্ট। মুসলিমদের নামাজ পড়ার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন আদালত।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদ ও দরগাহ এলাকাকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত মুসলিম পক্ষকে নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ভিন্ন জায়গা চেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিরোধের প্রেক্ষাপট ও সমীক্ষা:
ভোজশালা-কামাল মাওলা স্থাপত্যটি নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, এটি রাজা ভোজের তৈরি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’-সহ কয়েকটি সংগঠন সেখানে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। এর প্রেক্ষিতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ৯৮ দিন ধরে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালিয়ে দুই হাজার পাতার একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান কাঠামোটির নিচে আগে পারমার বংশের তৈরি একটি বিশাল কাঠামো ছিল।
আদালতের রায়:
শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ এএসআই-এর তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে রায় দেন। আদালত জানায়, ঐতিহাসিক সাহিত্য ও প্রমাণ অনুযায়ী ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা ছিল এবং সেখানে রাজা ভোজের একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আদালত পুরো অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেন।
এএসআই-এর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিমা স্থাপন:
রায়ে বলা হয়েছে, এখন থেকে ওই এলাকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার পূর্ণ তত্ত্বাবধান করবে এএসআই। এছাড়া হিন্দু পক্ষ লন্ডনের জাদুঘর থেকে সরস্বতীর প্রাচীন প্রতিমা ফিরিয়ে এনে সেখানে স্থাপনের যে আবেদন করেছে, কেন্দ্রীয় সরকারকে তা বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সমঝোতা অনুযায়ী এখানে মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল, যা আদালতের এই রায়ের ফলে এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।


