সিগন্যাল ভাঙলেই ডিজিটাল মামলা: ৩ দিনে এআই ক্যামেরায় আড়াই হাজার ফুটেজ

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই-চালিত ক্যামেরা ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থা চালু করেছে ডিএমপি। গত ৩ দিনে আড়াই হাজারের বেশি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জানুন কোন কোন এলাকায় এই নজরদারি চলছে।

May 12, 2026 - 15:58
 0  4
সিগন্যাল ভাঙলেই ডিজিটাল মামলা: ৩ দিনে এআই ক্যামেরায় আড়াই হাজার ফুটেজ
×

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে সিগন্যাল বাতি লাল হওয়ার পর আইন অমান্য করার দিন শেষ হতে চলেছে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের অনুপস্থিতিতেও এখন চালকদের ওপর নজর রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত ক্যামেরা। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই প্রযুক্তির আওতায় প্রথম তিন দিনেই আড়াই হাজারের বেশি আইন লঙ্ঘনের ফুটেজ সংগ্রহ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি:

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজারসহ অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল এবং হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরার মতো অপরাধ শনাক্ত করছে। পরে সেই ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে গাড়ির মালিক ও চালকের কাছে ডিজিটাল মামলা ও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

যেসব এলাকায় বসানো হয়েছে ক্যামেরা:

​শাহবাগ ও বাংলামোটর ক্রসিং

​কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণি

​হাইকোর্ট ক্রসিং ও মৎস্য ভবন

​কাকরাইল মসজিদ ও কদম ফোয়ারা

​মিরপুর রোড (ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এলাকা) ও গাবতলী

​রামপুরা ট্রাফিক বক্স ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি।

পরিবর্তন ও চালকদের প্রতিক্রিয়া:

সরেজমিনে কারওয়ান বাজার মোড়ে দেখা গেছে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে চালকদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। আগে যেখানে ট্রাফিক পুলিশ না থাকলে সিগন্যাল ভাঙার প্রবণতা ছিল বেশি, এখন ক্যামেরার ভয়ে চালকরা নিয়ম মেনে চলছেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টররা জানান, প্রযুক্তির কারণে সড়কে সরাসরি পুলিশি হস্তক্ষেপ কমছে, ফলে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার কারণে যে যানজট তৈরি হতো তা হ্রাস পাচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, "এ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি ফুটেজ আমাদের টেকনিক্যাল টিম (টিটিইউ) বিশ্লেষণ করছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মোবাইলে এসএমএস ও ডাকযোগে নোটিশ চলে যাবে।" তবে অস্পষ্ট নম্বর প্লেট ও নম্বর প্লেটবিহীন গাড়ি শনাক্তে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট নম্বর প্লেট নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

​ডিএমপির এই পদক্ষেপের ফলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের দিকে শহরটি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।