সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও একমি গ্রুপের এমডি মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক ও বিশিষ্ট শিল্পপতির মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর মেয়ে ও একমি গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
এক নজরে তাঁর রাজনৈতিক ও কর্মজীবন:
জন্ম: মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
কর্মজীবন ও একমি গ্রুপ: ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম শীর্ষ ও প্রাচীন ওষুধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান 'একমি গ্রুপ'-এ যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাজনীতিতে আগমন: ছাত্রজীবনে সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
সাংসদ ও মন্ত্রিত্ব: মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ি-লৌহজং) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৩ থেকে ২০০six সাল পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।
রাজনীতি থেকে অবসর ও পুনরুত্থান:
ব্যবসায়িক ব্যস্ততা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষসহ দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৫ সালে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি পুনরায় সক্রিয় হন এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দল থেকে তাঁকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তবে তীব্র অসুস্থতার কারণে পরবর্তীতে সেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়।
শোকের ছায়া:
লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি এলাকার সামাজিক উন্নয়ন ও দানশীলতার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মুন্সিগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মো. কামরুজ্জামান রতন এবং জেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।


