মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম

ফেনীর পরশুরামের মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও কারাজীবনের ট্রমা কাটাতে পারছেন না ইমাম মোজাফফর আহমদ। তীব্র মানসিক বিপর্যয়ে তাকে নেওয়া হলো ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে।

May 15, 2026 - 23:26
 0  3
মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম
×

​মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় এক মাসের বেশি কারাভোগ এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলেন না ফেনীর ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। কারাজীবনের ভয়াবহ মানসিক চাপ ও সামাজিক গ্লানি তাকে তীব্র মানসিক বিপর্যয়ের (সাইকোসিস) দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে তাকে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক মাধ্যমে জানান, জেল থেকে ফেরার পর মোজাফফর অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। সম্প্রতি তার ছোট ভাইয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ হিংস্র হয়ে ওঠেন এবং জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ স্বজনদের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশের সহায়তায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে জেলখানায় থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা গেছে।

মামলার সেই চাঞ্চল্যকর নেপথ্য:

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরাম উপজেলার টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩২ দিন কারাভোগের পর সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেই। অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে এক রোমহর্ষক সত্য— কিশোরীর নিজের বড় ভাই মোরশেদই ছিল এই অপরাধের মূল হোতা। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে নিরপরাধ ইমামকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত মোরশেদ কারাগারে থাকলেও নির্দোষ মোজাফফর হারিয়েছেন তার ইমামতি, চাকরি এবং মানসিক সুস্থতা।

চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা:

বর্তমানে মোজাফফরকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল নামের এক চিকিৎসক তাকে সারাজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনি অভিভাবক সংকটে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা দেখা দিলেও পরিবারকে দ্রুত ঢাকায় আসার খবর পাঠানো হয়েছে।

​নির্দোষ একজন আলেমকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সুস্থ হয়ে মোজাফফর আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।