‘আইন ব্যাখ্যায় নয়, প্রয়োগে মনোযোগী হোন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব
দেশে আশঙ্কাজনক হারে শিশু ও নারী হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ। অপরাধীদের দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি তাঁর।
দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ক্রমবর্ধমান নৃশংসতার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ। বুধবার (১৩ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "জনাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন ও সংবিধান ব্যাখ্যায় আপনি যথেষ্ট পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন; এবার দয়া করে আইন প্রয়োগে মনোযোগী হোন।"
উদ্বেগজনক অপরাধ পরিসংখ্যান:
বিবৃতিতে মাওলানা ইউনুস আহমদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসের ভয়াবহ অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরেন:
শিশু হত্যা: ৪ মাসে ১১৫টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪ জন শারীরিক নির্যাতনে এবং ২৫ জন পারিবারিক পরিমণ্ডলে মারা গেছে। ১১ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
নারী নির্যাতন: এই সময়ে ৫৬ জন নারী স্বামীর হাতে এবং ৮ জন স্বামীর পরিবারের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
ধর্ষণ: ৪ মাসে ১৮০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৬টি ছিল দলবদ্ধ ধর্ষণ (গ্যাং রেপ)। ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ১৬ জন ছিল ৬ বছরের কম বয়সী শিশু। ধর্ষণের কারণে এই সময়ে ৪৪ জন নারী মারা গেছেন।
নৃশংসতার মনস্তাত্ত্বিক কারণ:
মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, "এই ভয়াবহ তথ্যগুলো পড়া যায় না, শুনলে মানসিকভাবে অস্থির লাগে।" তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশি সিনেমায় নৃশংসতা দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে এবং অনলাইনে নৃশংস কনটেন্টের ছড়াছড়ি। এর ফলে নাগরিক মনস্তত্ত্বে সহিংসতা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সরকারকে এ ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নজরদারির আহ্বান জানান।
সরকারের প্রতি আহ্বান:
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি সভ্য সমাজে এমন নৃশংতা চলতে পারে না। অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে আইনের কঠোর ও নিয়মনিষ্ঠ প্রয়োগ অপরিহার্য। রাষ্ট্রে সরকার থাকা সত্ত্বেও এমন অপরাধের মহোৎসব বন্ধে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


