ওলামায়ে হক্কানিরা আমরা এক দল, কোনো বিভক্তি নেই: হেফাজত আমির
চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাওলানা মামুনুল হক। ওলামাদের ঐক্য ও ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, "আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে, ওলামায়ে হক্কানিরা আমরা সবাই একদল। হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনো ধরনের বিভক্তি নেই।"
আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক হেফাজত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাৎ শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এ কথা বলেন।
১১ দলীয় জোট ও কৌশলগত ঐক্যের ব্যাখ্যা:
ব্রিফিংয়ে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "চলমান জাতীয় পরিস্থিতি মোকাবিলার স্বার্থেই এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই জোটে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত মতপার্থক্য পূর্ব থেকেই বিদ্যমান এবং তা স্ব স্ব অবস্থানে বহাল রয়েছে। এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আকিদাগত বা আদর্শিক ঐক্য নয়; বরং বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে এটি একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য মাত্র।"
হেফাজতের আদর্শিক অবস্থান:
মাওলানা মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমির যে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিন্তা ও আকিদার কথা বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ হেফাজতের শরিক সংগঠনসমূহ দৃঢ়ভাবে সেই আকাবির-আসলাফের (পূর্বসূরীদের) ধারাকেই ধারণ করে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে, ইসলাম বা দেশের ওপর যেকোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আঘাতের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে দৃঢ় ভূমিকা রাখবে।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি:
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জাসিমউদ্দীন, মাওলানা আলী উসমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


