ইরান যুদ্ধে বিপাকে ইরাক, তেল-বাণিজ্যে বড় ধস
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি। ইরাকের তেল রপ্তানিতে বড় ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মেদ। জেনে নিন বিস্তারিত।
চলমান ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাকের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দেশটির অর্থনীতিতে এই বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরাকের নবনিযুক্ত তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মেদ সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে এই সংকটের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রপ্তানির ভয়াবহ পরিসংখ্যান:
শনিবার (১৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের তেলমন্ত্রী জানান, চলমান যুদ্ধের কারণে গত এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালি হয়ে ইরাক মাত্র ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পেরেছে। অথচ ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই রুট দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো। যুদ্ধের কারণে মূলত আন্তর্জাতিক বীমা জটিলতায় কোনো তেলের ট্যাংকার বা জাহাজ ওই ঝুঁকিপূর্ণ প্রণালিতে প্রবেশ করতে চাচ্ছে না। বর্তমানে ইরাকের দৈনিক তেল উৎপাদন ১৪ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
বিকল্প রুটের সন্ধান ও তুরস্কের সাথে চুক্তি:
হরমুজ প্রণালির সংকট কাটাতে ইরাক এখন বিকল্প রুটের দিকে ঝুঁকছে। বাগদাদ সরকার ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সফল সমঝোতার পর গত মার্চ থেকে 'কিরকুক-জেইহান' পাইপলাইন দিয়ে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে, যা খুব দ্রুত ৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তেল ও গ্যাস খাতের উন্নয়নে তুরস্কের পাশাপাশি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বড় চুক্তির আলোচনা চলছে।
ওপেক (OPEC) নিয়ে ইরাকের অবস্থান:
ইরাকের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের দৈনিক তেল উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা। এই বিষয়ে ওপেকের উৎপাদনসীমা শিথিল করার জন্য সংস্থাটির সাথে আলোচনা চালাচ্ছে বাগদাদ। তবে তেলমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সংকটের মধ্যেও ইরাকের ওপেক বা ওপেক প্লাস (+) ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা ওপেকের শক্তিশালী ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান ধরে রাখবে।


