সীমান্তে বিএসএফের বর্বরতা ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানালো ইসলামী ছাত্র আন্দোলন

লালমনিরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

May 16, 2026 - 22:35
 0  2
সীমান্তে বিএসএফের বর্বরতা ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানালো ইসলামী ছাত্র আন্দোলন
×

ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক লালমনিরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী মুসলিমদের ওপর পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

​শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আস-সাঈদ মিলনায়তনে সংগঠনের মুবাল্লিগ প্রত্যাশী জনশক্তিদের নিয়ে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী তারবিয়াতের সমাপনী অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এই প্রতিবাদ জানান।

সীমান্তে বর্বরতা ও সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ:

অধিবেশনে মুনতাছির আহমাদ বলেন, "একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিকদের এভাবে সীমান্তে পাখি শিকারের মতো গুলি করে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একের পর এক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে ভারত সরকার ও বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ন্যূনতম নীতিকেও উপেক্ষা করে চলেছে।"

​তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করেছিল বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু সীমান্ত হত্যার ঘটনায় সরকারের দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় অবস্থান জাতিকে চরমভাবে হতাশ করেছে। জনগণের জীবন, নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থতার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।"

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলার নিন্দা:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং মসজিদ-মাদরাসাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেন, সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মুসলিমসহ সব নাগরিকের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় ভারত সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলবের দাবি:

সংগঠনটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাটের সীমান্ত হত্যার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

সমাপনী অধিবেশনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:

তারবিয়াতের সমাপনী অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন: সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ। সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ashikul ইসলাম ও অর্থ-কল্যাণ সম্পাদক আহমাদ শাফী।

​দক্ষতা উন্নয়ন ও বিতর্ক সম্পাদক উবায়দুল্লাহ মাহমুদ, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।