ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতার অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার ঘোষণা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের
ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপতৎপরতা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে।
রবিবার (১৭ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
দমন-পীড়ন ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের নিন্দা:
বিবৃতিতে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃদ্বয় বলেন, "ডুয়েটের একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শক্তি প্রয়োগ কিংবা বহিরাগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলমান সংকটকে আরও বেশি জটিল করে তুলছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দমন-পীড়ন, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বল প্রয়োগের রাজনীতি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান:
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা, একাডেমিক মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতৃদ্বয়। তাঁরা উল্লেখ করেন, সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কেবল চলমান পরিস্থিতির একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।
সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি:
বিবৃতিতে রাজপথের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ডুয়েটকে অস্থিতিশীল করতে কোনো নির্দিষ্ট মহল যদি ষড়যন্ত্রমূলক বা সহিংস পথ অবলম্বন করে, তবে সাধারণ ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
সবশেষে, ডুয়েটে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান তাঁরা। নেতৃদ্বয় মনে করেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।


