ট্রলার থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠানো ‘নিষিদ্ধ’, ঈদযাত্রায় বন্ধ থাকবে বাল্কহেড ও রাতের স্পিডবোট

আসন্ন ঈদুল আজহায় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ট্রলার থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অমান্য করলেই বাতিল হবে লঞ্চের যাত্রা।

May 16, 2026 - 20:22
 0  2
ট্রলার থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠানো ‘নিষিদ্ধ’, ঈদযাত্রায় বন্ধ থাকবে বাল্কহেড ও রাতের স্পিডবোট
×

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভূতপূর্ব কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এখন থেকে নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ নৌচলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

​কঠোরতার পেছনে গত মার্চের সেই ট্র্যাজেডি:

গত ১৮ মার্চ ঈদযাত্রার সময় সদরঘাটে অবৈধভাবে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানোর সময় দুই লঞ্চের মাঝখানে পিষ্ট হয়ে ও পানিতে পড়ে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নদীপথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এবার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:

​পন্টুন ব্যবহার বাধ্যতামূলক: কেবলমাত্র বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করেই লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

​বাল্কহেড ও বালু উত্তোলন বন্ধ: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের আগের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন (২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) নদীপথে বাল্কহেড ও বালুবাহী সবধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

​স্পিডবোট ও ডিঙি নৌকায় নিষেধাজ্ঞা: ঈদযাত্রায় রাতে স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দিনে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রী সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সদরঘাট এলাকায় ডিঙি নৌকা চলাচল ও নৌচ্যানেলে মাছ ধরার জাল পাতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

​লঞ্চের লাইসেন্স বাতিল: অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, ছাদে যাত্রী ওঠানো কিংবা সিরিয়াল ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অন্তত ৪ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

​বিকল্প নৌপথ চালু: নৌপথের ওপর চাপ কমাতে এবার রাজধানীর বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন বসিলা ঘাট এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​"নৌকা বা ট্রলার দিয়ে কোনো যাত্রী কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে ওঠা-নামা করবেন না, নদীর মাঝপথে বাল্কহেড থাকতে পারবে না। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড কঠোর তদারকির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবে। আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তাদের নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।"

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

সার্বক্ষণিক নজরদারি ও হকারমুক্ত টার্মিনাল:

সদরঘাট টার্মিনালকে সম্পূর্ণ হকার ও ক্যানভাসারমুক্ত করা হবে। সদরঘাট এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। এই কঠোর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নৌঘাটে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশ ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে।