একাই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিলেন বাংলাদেশি তরুণী

লিবিয়া উপকূল থেকে বোটভর্তি পুরুষের মাঝে একমাত্র নারী হিসেবে গ্রিসে পৌঁছালেন এক বাংলাদেশি তরুণী। বরিশালের এই মেয়ের অদম্য সাহসের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

May 16, 2026 - 12:52
 0  4
×

ভূমধ্যসাগরের নোনা জল আর উত্তাল ঢেউয়ের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ কথা নয়। যেখানে শক্তিশালী পুরুষরা এই ভয়ঙ্কর পথে চলতে গিয়ে নিখোঁজ হন বা হিমশিম খান, সেখানে এক বাংলাদেশি তরুণীর অদম্য সাহসিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

​গত ৯ মে ভোরে লিবিয়া উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি বিপজ্জনক অভিবাসীবাহী বোট ছেড়ে যায়। সম্প্রতি বোটটি সফলভাবে গ্রিস উপকূলে পৌঁছেছে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো— পুরো বোটভর্তি পুরুষদের ভিড়ে একজন মাত্র নারীকে দেখা গেছে, যিনি হিজাব পরা অবস্থায় অত্যন্ত শান্তভাবে বসে আছেন।

নেটদুনিয়ায় ভাইরাল সেই ছবি:

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই তরুণী বাংলাদেশি এবং তাঁর বাড়ি বরিশাল জেলায়। জীবনের স্বপ্ন পূরণের নেশায় তিনি লিবিয়া হয়ে এই দুর্গম ও মরণফাঁদ পথ পাড়ি দিয়েছেন। একঝাঁক পুরুষের ভিড়ে ছোট একটি বোটে গাদাগাদি করে বসে থাকা ওই তরুণীর ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বীরত্ব বনাম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত:

একদিকে অনেকেই বরিশালের এই মেয়ের অসীম সাহসের প্রশংসা করছেন এবং সব বাধা পেরিয়ে তাঁর এই লড়াকু মনোভাবকে বীরত্ব হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বড় একটি অংশ এই বিপজ্জনক যাত্রার তীব্র সমালোচনা করছেন। কারণ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। একজন নারী হয়ে এতগুলো অপরিচিত পুরুষের মাঝে এমন অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাকে অনেকেই 'আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত' বলে মনে করছেন।

লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর ঝুঁকি:

লিবিয়া থেকে গ্রিসের এই রুটটি বর্তমানে মানবপাচারকারীদের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সফলতার পেছনে যেমন ভাগ্যগুণে বেঁচে যাওয়ার আনন্দ আছে, তেমনি এর আড়ালে আছে হাজারো মানুষের ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধির ইতিহাস। বিশেষ করে নারীদের জন্য এই দীর্ঘ ও অবৈধ রুটে শারীরিক, মানসিক ও নানামুখী নির্যাতনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বরিশালের এই তরুণী হয়তো লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, কিন্তু এই পথটি মোটেও সবার জন্য সুখকর হয় না।