নেতা টানার রাজনীতি: পুরোনোদের ফেরাতে অনীহা এনসিপির?

আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সাংগঠনিক বিস্তার বাড়াচ্ছে এনসিপি। তবে অন্য দল থেকে নেতা ভেড়ানোর ধুম থাকলেও প্রতিষ্ঠাকালীন ত্যাগী নেতাদের ফেরাতে দলটির উদাসীনতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

May 14, 2026 - 16:24
 0  3
নেতা টানার রাজনীতি: পুরোনোদের ফেরাতে অনীহা এনসিপির?
×

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নতুন নতুন কর্মসূচি ও অ্যালায়েন্স ঘোষণার মাধ্যমে দলটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, এর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদর্শিক বিচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, অন্য দল থেকে প্রভাবশালী নেতাদের টানার বিষয়ে যতটা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠাকালীন ত্যাগী ও পুরোনো নেতাকর্মীদের ফেরাতে এনসিপির ততটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অন্য দল থেকে যোগদান ও পুরোনোদের দূরত্ব:

সম্প্রতি বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে একাধিক নেতা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ইসহাক সরকার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল। তবে এই যোগদানে দলটির শক্তি বাড়লেও প্রতিষ্ঠার সময়ে সক্রিয় থাকা একটি অংশ রাগ-অভিমান ও মতপার্থক্যের কারণে দল ছেড়ে গেছেন।

নেতৃত্বের দ্বিমুখী অবস্থান:

দলত্যাগী নেতাদের ফেরানো নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। এনসিপির নবগঠিত **‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’**র সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, পুরোনোদের ফেরানোর বিষয়টিও এই কমিটির আওতায় থাকবে। অন্যদিকে, মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত দাবি করেছেন, যারা দল ছেড়ে গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়নি; বরং নতুনদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করাই এর মূল কাজ।

আদর্শিক বিচ্যুতি ও পুরোনো ধাঁচের রাজনীতির অভিযোগ:

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা সাবেক যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, “এনসিপি শুরুতে ‘নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ চালুর কথা বললেও বর্তমানে তারা পুরনো ধাঁচেই আবর্তিত হচ্ছে। জুলাই গণআন্দোলনের স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হয়ে দলটি এখন দলছুট নেতাদের ভেড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।”

​একই সুরে কথা বলেছেন এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা আরিফ সোহেল। তিনি অভিযোগ করেন, “এনসিপি এখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কাঠামোর মধ্যেই রাজনীতি করছে এবং ধীরে ধীরে তাদের চরিত্রও পুরনো ধারার রাজনৈতিক দলের মতোই হয়ে যাবে। সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিলের পরও এনসিপির কোনো এমপি পদত্যাগ করেননি, যা প্রমাণ করে তারা ক্ষমতার সাথে আপস করেছে।”

সার্চ কমিটির গঠন ও ভবিষ্যৎ:

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সম্মতিতে গঠিত সার্চ কমিটিতে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীবসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এই কমিটি অন্য দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের যাচাই-বাছাই করলেও, পুরোনোদের মানভঞ্জনে তারা কতটা আন্তরিক হবেন—তা নিয়ে খোদ দলটির ভেতরেই সংশয় রয়েছে।

​বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি মুখে ‘নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ কথা বললেও বাস্তবে স্বচ্ছ অর্থনৈতিক নীতি বা আদর্শিক রূপরেখা নিশ্চিত করতে না পারলে তারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ হয়ে পড়বে। ‘ক্ষমতা না জনতা’—এই স্লোগান থেকে সরে গিয়ে দলটি এখন পুরোপুরি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।