স্বাধীনতার পর দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশই নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের নেওয়া মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের আমলের। ঋণের বোঝা, মাথাপিছু ঋণ এবং রিজার্ভের ওপর চাপ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া মোট বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগই গ্রহণ করেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশই নেওয়া হয়েছে গত সাড়ে ১৫ বছরে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নেওয়া এই বিপুল ঋণের বড় অংশই কঠিন শর্ত ও চড়া সুদের জালে বন্দি, যার বিরূপ প্রভাব এখন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়ছে।
সাড়ে ১৫ বছরে ঋণের উল্লম্ফন:
২০০৯ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ২ হাজার ২৭৯ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের জুনে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩৪১ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার। বর্তমানে মোট ঋণের প্রায় ৭৬ শতাংশই চড়া সুদ ও কঠিন শর্তের।
মাথাপিছু ঋণের বোঝা ও ডলারের প্রভাব:
মাথাপিছু ঋণ: ২০০৯ সালে মাথাপিছু ঋণ ছিল ১৬৯ ডলার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৭ ডলারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এটি আরও বেড়ে ৬৫৭ ডলারে ঠেকেছে।
ডলারের দাম: ২০০৯ সালে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৬৯ টাকা, যা ২০২৪ সালে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এতে টাকার মান ব্যাপকভাবে কমেছে এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে।
সুদহার: ঋণের সুদহার ৪-৫ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭-৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
রিজার্ভের ওপর চাপ ও অপব্যবহারের অভিযোগ:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ঋণের বড় অংশই খরচ করা হয়েছে স্থানীয় মুদ্রানির্ভর প্রকল্পে, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম নয়। এছাড়া ঋণের টাকার একটি অংশ বিদেশে পাচার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে এখন ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে রিজার্ভের বিপরীতে ঋণের অনুপাত ৬০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি:
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। শুধু গত অর্থবছরেই শোধ করতে হয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে এই অঙ্ক ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করে পাচার ও অনুৎপাদনশীল প্রকল্পে খরচ করার খেসারত এখন সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে।


