গলাচিপায় মাছ চুরির ঘটনা আড়াল করতে ছাত্র আন্দোলনের নেতার ওপর শিবির কর্মীর হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় এন জেড আলিম মাদরাসার পুকুর থেকে মাছ চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক ছাত্র আন্দোলনের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। উত্তপ্ত ক্যাম্পাস পরিস্থিতি।

May 20, 2026 - 19:12
 0  24
গলাচিপায় মাছ চুরির ঘটনা আড়াল করতে ছাত্র আন্দোলনের নেতার ওপর শিবির কর্মীর হামলার অভিযোগ
×

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি মাদরাসার পুকুর থেকে গভীর রাতে মাছ চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জেরে ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এন জেড আলিম মাদরাসায় ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও গভীর ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​মাছ চুরি ও প্রতিহিংসার সূত্রপাত:

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে গভীর রাতে এন জেড আলিম মাদরাসার নিজস্ব পুকুর থেকে সিফাতুল্লাহ নাইম নামের এক শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে কয়েকজন রাতের আঁধারে মাছ চুরি করেন। মাছ চুরির বিষয়টি পুকুর ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য হাতেনাতে দেখে ফেললে অভিযুক্তরা তাঁকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার (মীমাংসার) চেষ্টা চালান। তবে তিনি ওই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর, মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিচার দিয়েছে—এমন সন্দেহে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাবশত ছাত্র আন্দোলনের মেধাবী নেতা মুয়াজ আহমদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্ত নাইম ও তার সহযোগীরা।

শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনেই হামলা:

প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার দিন বহিরাগত কয়েকজন উগ্র যুবককে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে (ক্লাসরুম) প্রবেশ করে মুয়াজ আহমদের ওপর চড়াও হয় নাইম ও তার সহযোগীরা। তারা মুয়াজকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। হামলার সময় শ্রেণিকক্ষে আরবির প্রভাষক গোলাম রব্বানী উপস্থিত থাকলেও তিনি হামলাকারীদের প্রতিরোধে বা মুয়াজকে রক্ষায় কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেছেন।

প্রিন্সিপালকে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ:

ক্লাসরুমে হামলার পর মাদরাসার প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ বিচারিক বৈঠকের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত নাইম সেই বৈঠকেও বহিরাগতদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রিন্সিপালসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক ও অবাধ্য আচরণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে সে তার দলবলসহ বৈঠক বর্জন করে চলে যায়।

বৈঠকে সত্যতা নিশ্চিত, বিচারের দাবি:

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বুধবার (২০ মে) এন জেড মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় সুধী সমাজ, প্রশাসন, সংবাদকর্মী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি যৌথ সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাদরাসার প্রিন্সিপাল নিজে উপস্থিত সবার সামনে ঘটনার আদ্যোপান্ত ও চুরির বিবরণ তুলে ধরেন। উপস্থিত একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, প্রিন্সিপালের জবানবন্দি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে সিফাতুল্লাহ নাইমের বিরুদ্ধে আনা মাছ চুরি এবং ক্লাসরুমে ঢুকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে।

​ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাত্র নেতার ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী নাইম ও তার বহিরাগত সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।