স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিচারের দাবিতে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ
ফতুল্লায় এক গার্মেন্টস ঠিকাদারকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিচার চেয়ে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক গার্মেন্টস ঠিকাদারকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিচার চেয়ে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকেরা। অভিযুক্ত ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসকে শাহীনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা লিংক রোডের পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আকস্মিক এই অবরোধের ফলে ব্যস্ততম সড়কটির দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের মারাত্মক অভিযোগ:
গ্রেফতার হওয়া পোশাক ঠিকাদার পলাশ হোসেন আকাশের স্ত্রী হালিমা আক্তার বৃষ্টি অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "গত ১০ মে রাতে এসকে শাহীন ফোন করে তার সহযোগী বশিরের মাধ্যমে পলাশকে অফিসে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অমানুষিক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তার হাতে অবৈধ অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে র্যাবের কাছে সোপর্দ করা হয়।"
হালিমা আক্তার বৃষ্টি আরও যোগ করেন, "ঘটনার পর আমার স্বামীর হাতঘড়ি ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবিসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শাহীন আমাদের কাছে ফেরত দিয়েছেন। শাহীন যদি এই সাজানো ঘটনার সঙ্গে জড়িত না-ই থাকবেন, তবে আমার স্বামীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তাঁর জিম্মায় গেল কীভাবে? আর যদি সত্যিই আমার স্বামীর কাছে কোনো অস্ত্র থাকত, তবে শাহীনের অফিসের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ গায়েব করা হলো কেন? সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই সত্যতা প্রমাণিত হবে।"
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা:
অবরোধ চলাকালে কয়েক শত পোশাক শ্রমিক ঠিকাদার পলাশের নিঃশর্ত মুক্তি এবং অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসকে শাহীনের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়ক কাঁপিয়ে তোলেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। দুপুর ১টার পর লিংক রোডে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


