শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন হয়: মাহদী আমিন

লন্ডনে অনুষ্ঠিত এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শিক্ষা ও চরিত্র গঠন নিয়ে তাঁর দূরদর্শী বক্তব্য তুলে ধরেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

May 19, 2026 - 19:49
 0  4
শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন হয়: মাহদী আমিন
×

শিক্ষা শুধু একটি সাধারণ সনদপত্র নয়, এটি একটি দীর্ঘ যাত্রা যা মানুষের ভেতরকার ইতিবাচক মূল্যবোধ গঠন করে। শিক্ষার প্রকৃত মাধ্যমেই মানুষের চরিত্র সুগঠিত হয় এবং তা মানুষকে দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নাগরিকত্বে অনুপ্রাণিত করে।"

​যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে এভাবেই নিজের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গত সোমবার (১৮ মে) বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই বিশ্ব ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রশংসা ও ফটোকার্ড:

এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরামে উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দেওয়া এই বক্তব্য ও তাঁর দূরদর্শী রূপকল্পকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মাহদী আমিনের ছবিসহ একটি বিশেষ ফটোকার্ড পোস্ট করে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের কাছ থেকে মূল্যবোধ, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের চালিকাশক্তি হিসেবে শিক্ষার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জানাটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্ভাবনী অর্থায়ন বিষয়ক সংলাপ এবং এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত বৈশ্বিক সহযোগিতার গভীর প্রত্যাশা করছি।’

লন্ডনের স্মৃতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা:

আন্তর্জাতিক এই ফোরামে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে চার দিনের সফরে আসার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন মাহদী আমিন। তিনি লিখেছেন, "লন্ডন এমন একটি শহর যা আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়কে রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় যাত্রার অনেক সংকটময় মুহূর্তে আমি নিজেকে এই শহরেই পেয়েছি, যা আমার মনে গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর আশা জাগিয়ে রেখেছিল।"

​তিনি আরও স্মরণ করেন, "ঠিক ১৫ বছর আগে এই ঐতিহাসিক লন্ডন শহরেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল এবং তাঁর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ শুরু করেছিলাম; যা সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি দৃঢ় ও অমূল্য হয়ে উঠেছে। বিগত দুই দশক ধরে প্রতি বছরই আমি এখানে এসেছি। কিন্তু এবারের সফরটি সম্পূর্ণ অন্যরকম। প্রথমবারের মতো আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে এই চিরচেনা শহরে ফিরেছি। মাতৃভূমির প্রতি এক বিশাল ও বৃহত্তর দায়িত্ব বহন করে লন্ডনের পরিচিত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মধ্যে এক ধরনের বিনম্র অনুভূতি কাজ করছে।"

নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার:

নতুন সরকারের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে যোগ করেন, "সময় আমার ভূমিকা বদলে দিয়েছে। দেশের কোটি মানুষের বিপুল গণতান্ত্রিক জনরায়ের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে রূপান্তরিত করার এবং একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও নীতিবান কর্মশক্তি গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমি সর্বোচ্চ দৃঢ়তা, মর্যাদা ও সততার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের তরুণ, নারী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুপ্ত সম্ভাবনাকে উন্মোচন করার এই বিশাল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"